স্বপ্ন পূরন আইটি সেন্টার

সফল ফ্রিল্যান্সারের সফল হওয়ার পেছনের গল্প


ফ্রিল্যান্সিং মানে কোন একটা ফিল্ডে দক্ষ হওয়া যে কাজটা অনলাইনের মাধ্যমে অন্য দেশের ক্লায়েন্টরা অফার করে থাকে। কয়েকশ ক্যাটাগরির কাজ অনলাইনে আছে। আইটি, নন-আইটি, বিজনেস, ক্রিয়েটিভ, ইঞ্জিনিয়ারিং সব খাতের জন্যই কাজ আছে। এই লেখার শেষে কাজের ক্যাটাগরি গুলোর লিংক অ্যাটাচ করা থাকবে। সাথে এখনকার সময়ে ডিমান্ডিং জব ফিল্ড গুলার একটা স্টাডি।

ফ্রিল্যান্সিং সহজ কাজ নয়। তেমনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের আয় ও কম নয়।
ফ্রিল্যান্সিং লাইফ সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়, একজন সফল ফ্রিল্যান্সারের সফল হওয়ার পেছনের গল্প শুনলে আপনি তাকে ‘লিজেন্ড’ খেতাব দিবেন। কারণ সফলতার পেছনের গল্প আনন্দের হয়না, অনেক স্ট্রাগল থাকে। রাতের পর রাত কোন কাজ শেখা, ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখা, বই পড়া, কাজ গুলো প্র্যাক্টিস করা, ধৈর্য ধরে টাকার আশা  না করে কাজে দক্ষ হওয়ার জন্য মাসের পর মাস সময় দেয়া, এসব থাকে একজনের সফলতার পেছনে।
একটা উদাহরণ দেয়া যাক।
আপনি ধরুন বিবিএ পড়ছেন। ফিন্যান্স নিয়ে। পড়াশোনা শেষ করতে সময় লাগে ২০ বছর। ২০ বছর পড়াশোনা করা আপনি একটা জবে ফ্রেশার হিসেবে এপ্লাই করেন, যার সেলারি ১৫ হাজারের মত। অনেকবার রিজেক্ট হতে হয়, কারণ আরও শত-শত এপ্লাই করছে। শেষমেশ একটা জব পান।

১৫ হাজারের জব করার জন্য ২০ বছর পড়াশোনা করলেন দু-বার না ভেবে। পড়াশোনা শেষ করে একটা লোকাল জবের জন্য প্রতিযোগীতায় নামলেন একই শহরের অন্যদের সাথে, যারা কিনা আপনার লেভেলের পড়াশোনাই করেছে।

এবার ভাবুন ফ্রিল্যান্সিং এর কথা, এমেরিকার একটা কোম্পানি তাদের একটা জব আউটসোর্স করল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে। ২ সপ্তাহের প্রজেক্ট, ১ হাজার ডলার। এপ্লাই করল কারা? সারা বিশ্বের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ওপেন, (ছোট শহর নয়), বিশ্বের টপ প্রফেশনালরা এপ্লাই করল, আপনিও করলেন। তার মানে? এবার আপনার প্রতিযোগীতার লেভেল কোথায়?

এবার ভাবুন, এই লেভেলে প্রতিযোগিতার জন্য আপনি শুধু ২ মাসের কোর্স করেই দক্ষ হতে পারবেন? অবাস্তব নয়?

হ্যাঁ এটা সত্যি যে ফ্রিল্যান্সিং করে লাখ টাকা আয় করা যায়, সার্ভেতে দেখা যায়, এ দেশে ২০% এর বেশি ফ্রিল্যান্সার মাসে ২ লাখের উপর আয় করে। কিন্তু তারা ২ মাসে কোর্স করে এত দূর আসেনি। তারা অন্তত এক বছর  সময় নিয়ে টাকা আয়ের কথা না ভেবে শেখার উপর জোর দিয়েছিল!

যেখানে ১৫ হাজার টাকার জবের জন্য ২০ বছর পড়াশোনা করলেন, মাসে কয়েক লক্ষ আয় করতে, বিশ্বের টপ-লেভেল প্রফেশনালদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে ১-২ বছর সময় দিয়ে কাজ শিখবেন না?

কাদের জন্য এই মুক্ত-পেশা?

– যাদের অতিরিক্ত লোভ নেই।

– যারা কাজ শেখার ধৈর্য রাখে।

– যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মত কমিউনিকেশন জানে।

– যারা শর্টকাটে টাকা আয় করতে চায় না।

– যাদের জীবনে কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আছে।

– যারা সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়।

– যাদের শেখার প্রবণতা আছে।

 

যারা এ পথে না আসলে ভাল করবেনঃ

  • যারা কাজের চেয়ে টাকাকে মূল্যায়ন করেন।
  • যারা সহজে আয়ের পথ খুঁজছেন।
  • যারা চাকরির বা অন্য পেশার পাশাপাশি সাইড ইনকাম হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং কে ভাবছেন।
  • যারা মনে করছেন শেখা শুরুর ১৫দিন – ১ মাসের মধ্যেই কারিকারি টাকা আয় করবেন।
  • যারা ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং সেন্টারের চটকদার বিজ্ঞাপন ‘ঘরে বসে লাখ টাকা’ দেখে এই পেশার জন্য আগ্রহী হয়েছন।
  • যারা ফ্রিল্যান্সিং কে খুব সহজ ভাবেন।

কিভাবে আসবেন এ পথে?

  • আগে জানুন এ খাতে কোন কোন ফিল্ড আছে। (রেফারেন্সে লিংক)
  • তারপর ভেবে দেখুন আপনার এখন যে ব্যাকগ্রাউন্ড, স্কিল এবং ইন্টারেস্ট; সেটার সাথে কোন ফিল্ড মিলে যায়।
  • বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে ঐ ফিল্ড গুলোর এখন পোস্ট করা জব গুলো ঘেঁটে দেখুন, বুঝার চেষ্টা করুন এ ধরণের কাজে কি কি স্কিল লাগে।
  • ঠিক করার পর এবার চেষ্টা করুন কোথা থেকে শেখা যায়, অনলাইনেই শেখা যায় ধৈর্য থাকলে। এদেশে প্রথম সারির ফ্রিল্যান্সাররা নিজে নিজেই শিখে সফল।
  • কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন এই সময়ে এসে, স্কিল্ড হওয়ার পর পরামর্শ নিন কিভাবে ফিল্ডে নামা যায়। প্রথমেই ‘ভাই, ইনকাম করার সহজ পথ বলেন’ বলে কাউকে ইরিটেট করবেন না।
  • চেষ্টা করতে থাকেন, ফেইল করলে ভুল গুলো শুধরে আবার ট্রাই করেন। যে কাজে আপনাকে এক্সেপ্ট করেনি, সে কাজ নিজেই করুন, সেম্পল প্রজেক্ট হিসেবে প্র্যাক্টিসও হবে, পোর্টফোলিও হবে।
  • ধৈর্য ধরে নিজেকে আরও স্কিল্ড বানানোর জন্যে নতুন নতুন কিছু স্টাডি করুন।

 

কিছু ভুল ধারণাঃ

  • ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং শেখা যায়!
  • ৫ হাজার টাকা দিয়ে ২ মাস কোর্স করলেই হাজার টাকা আয় করা যায়!
  • ট্রেইনিং সেন্টারে গেলেই সফল হওয়া যায়!
  • CAPTCHA এন্ট্রি, ফেইক লাইক, পিটিসি, BET365 এগুলো ফ্রিল্যান্সিং!
  • ফ্রিল্যান্সিং করা খুব সহজ, দিনে ২ ঘন্টা সময় দিলেই হাজার টাকা!
  • ফ্রিল্যান্সিং মানে SEO.
  • ফ্রিল্যান্সিং আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য, বিজনেস, নন-আইটি বা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছেলে মেয়েদের জন্য না।
  • ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটি ওরিয়েন্টেড ফিল্ডে কাজ করতে হবে।

 

কিছু অপ্রকাশিত তথ্যঃ

  • দেশে ৬ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং অথবা অনলাইন প্রফেশনাল।
  • নাম-সর্বস্ব ট্রেইনিং সেন্টারের সংখ্যা ১১০০০ +
  • ট্রেইনিং প্রাপ্ত নাম-সর্বস্ব স্কিল্ড ছেলেমেয়ের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি (এর অর্থ হল ১৪ লক্ষ বেকার, কারণ তারা সত্যিকার অর্থে স্কিল্ড না)।
  • নন-আইটি, বিজনেস, ক্রিয়েটিভ, ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই ছাড়া) ব্যাকগ্রাউন্ড এর জন্য কাজের সংখ্যা মোট মার্কেটের ৫৩%।
  • আইটি ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরের সবার ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আইটির কাজ শিখতে হবে না, তাদের নিজেদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজই আছে মার্কেটে অনেক।

 

কিছু পরামর্শঃ

  • অল্প দিনে অনেক টাকা আয় করার কথা যারা বলে তাদের থেকে দূরে থাকুন।
  • পুরোদমে ফ্রিল্যান্সিং করবেন, তবে ৩ বছরের বেশি না, এর পর উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করবেন।

হয়ে যাও দক্ষ ভিডিও এডিটর!

কোন ভিডিওকে নিজের পছন্দমত এডিট করার জন্যে অনেক মজার এবং সবচাইতে জনপ্রিয় একটা সফটওয়্যার ফিলমোরা

ফিলমোরা-এর সাহায্যে ভিডিও এডিটিং শিখতে এক্ষুনি চলে যাও স্বপ্নপূরন আইটি সেন্টারে

গুরুত্বপূর্ণঃ

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় যে গুণটা দরকার, তা হল নিজ থেকে বুঝে নেয়ার ক্ষমতা, কাউকে জিজ্ঞাসা করার আগে নিজে সময় দিয়ে মাথা খাটিয়ে নেট ঘেঁটে শিখে নেয়ার চেষ্টা।  কারণ যে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবে, অবশ্যই সে নিজে অনেক ব্যস্ত, তাকে ছোট খাটো সব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তাকে বিরক্ত করা ছাড়া কোন কাজ হবেনা। কিন্তু আপনি যদি নেট ঘেঁটে কিছু শেখার-জানার দক্ষতা রাখেন, আপনি যে কোন ফিল্ড নিয়ে কাজ শুরু করে নিমিষেই সফল হতে পারবেন।

এই গাইডলাইনের লেখক নিজে ৮ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং জগতে আছে, কিন্তু মূল ধারায় ফ্রিল্যান্সিং করেছেন ৫ বছর, এর পর উদ্যোক্তা হয়েছেন। যেকোন ফ্রিল্যান্সারই দক্ষতার সাথে ৩-৪ বছর ফ্রিল্যান্সিং করে ঐ ফিল্ডেই নিজের কোম্পানি শুরু করতে পারে। সেই একই কাজ কোম্পানি হিসেবে বড় টিম নিয়ে করতে পারে।

লেখক ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রির একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক এবং কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, তাই গাইডলাইন হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির সব ফিল্ড নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছেন। এর অর্থ এই নয় যে তিনি প্রত্যেক ফিল্ডে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ। সব ফিল্ড নিয়ে এডভান্স লেভেলের পরামর্শ দেয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়, তাই এ ধরণের প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

এই লেখাটি একটি সিরিজের প্রথম পর্ব। এখানে মূলত ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার নিয়ে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়েছে, ভুল-সঠিক পথ দেখানো হয়েছে, যে কেউ এই লেখা পড়ে বুঝতে পারবেন তার জন্য ফ্রিল্যান্সিং পেশাটা সঠিক কি-না, আর সঠিক হলে কোন ফিল্ড নিয়ে কাজ শুরু করা যায়।

পরের পর্ব গুলো হতে পারে নিম্নরূপঃ

– কিভাবে কাজ শেখা যায়
(বিনামূল্যে)

  • কিভাবে প্রথম থেকে শুরু করা যায়।
  • নারীদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।
  • অ্যাইটি ব্যাকগ্রাউন্ডদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।
  • বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।
  • নন-আইটি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।
  • ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার।

এরকম আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে, পাঠকরা কোন প্রশ্ন বা প্রত্যাশা থাকলে বলবেন, সে প্রেক্ষিতেও কোন এক পর্বে আলোচনা করা হবে।

রেফারেন্সঃ

১. Freelancer.com এ সব ফিল্ড গুলোঃ

https://www.freelancer.com/hire/allskills

টপ ফিল্ড গুলোঃ


 Data Entry

 Logo Design

 Graphic Design

 Website Design

 Mobile Phone

 Translation

 Software Development

 HTML

 PHP

 Internet Marketing

 WordPress

 Articles

 SEO

 CSS

 Photoshop

 Software Architecture

 Excel

Android

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আমাদের রয়েছে বিশেষ ট্রেনিং ব্যবস্থা

২. Upwork এ সব ফিল্ড গুলোঃ
 

https://www.upwork.com/i/freelancer-categories/

 

টপ ফিল্ড গুলোঃ


Android Developers

AngularJS Developers

Bookkeepers

C# Developers

Content Writers

Copywriters

Customer Service Representatives

Data Entry Specialists

Email Marketing Consultants

Excel Experts

Facebook Marketers

Graphic Designers

iOS Developers

JavaScript Developers

jQuery Developers

Mobile App Developers

Objective-C Developers

PHP Developers

Python Developers

Sales Consultants

SEO Experts

Social Media Consultants

Swift Developers

Technical Writers

UI Designers

UX Designers

Virtual Assistants

Web Designers

WordPress Developers

Writers


Post a Comment

Previous Post Next Post