স্বপ্ন পূরন আইটি সেন্টার

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস, কাজের পদ্ধতি ও টাকা পাবার উপায়

অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস:

মূলত একটা ওয়েবসাইট ভিত্তিক সেবা। যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা অ্যাকাউন্ট খুলে প্রোফাইল সাজিয়ে বসে থাকেন, আর ক্লায়েন্টরা দরকার মতো খুঁজে নেন। 
যেভাবে ক্লায়েন্ট কাজ দেন: পদ্ধতি১: প্রজেক্ট 
১. প্রথমে ক্লায়েন্ট মার্কেটপ্লেসে আসেন। সেখানে তারা একটা প্রজেক্ট তৈরী করে দেন। যেখানে কাজ ও কর্মীর চাহিদা সম্পর্কে তথ্য থাকে।
২. ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন প্রজেক্ট ব্রাউজ করে দেখেন। তারপর বিড/অফার করেন। যেখানে সে উল্লেখ করে দেয় কত সময়ের মধ্যে, কতটুকু করে কাজটি করে দিতে পারবেন।
৩. ক্লায়েন্টের যার চিঠি ও প্রস্তাব ভালো মনে হয় তার সাথে আলাপ করার জন্য ডাকেন। সব ভালো লাগলে কাজটি শুরু করার অনুমতি দিয়ে দেন।
৪. ফ্রিল্যান্সাররা কাজটি করে, জমা দেয়।
৫. ক্লায়েন্ট পছন্দ হলে জানিয়ে দেয়, অথবা ভুল থাকলে শুধরে দিতে বলে।
৬. ফ্রিল্যান্সার তার ফাইনাল প্রজেক্ট জমা দেয়।
৭. ক্লায়েন্ট তার অর্থ পরিশোধ করে দেন।

যেভাবে ক্লায়েন্ট কাজ দেন: পদ্ধতি ২: প্রতিযোগীতা বা কন্টেস্ট
১. প্রথমে ক্লায়েন্ট মার্কেটপ্লেসে আসেন। সেখানে তারা একটা কন্টেস্ট তৈরী করে দেন।
২. ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন কন্টেস্ট ব্রাউজ করে দেখেন। তারপর কাজটি শুরু করে দেয়। এবং সরাসরি কাজটির নমুনা জমা দেয়।
৩. ক্লায়েন্টে পরে কাজের নমুনা যাচাই করে দেখে। যার কাজ ভালো মনে হয় তাকে জিতিয়ে দেন অথবা তার সাথে কথা বলে নেন।
৪. ফ্রিল্যান্সাররা কাজটি ফাইনাল করে, জমা দেয়।
৫. ক্লায়েন্ট তার অর্থ পরিশোধ করে দেন।
যেভাবে ক্লায়েন্ট কাজ দেন: পদ্ধতি ৩: সরাসরি ফ্রিল্যান্সারকে নক করা
১. প্রথমে ক্লায়েন্ট মার্কেটপ্লেসে আসেন। তারপর সংশ্লিষ্ট ফ্রিল্যান্সারদের খোঁজেন।
২. ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল, পোর্টফোলিও বিভিন্ন কিছু ব্রাউজ করে দেখেন। তারপর তাকে নক করেন।
৩. ফ্রিল্যান্সার কাজটি দেখে বুঝে নেন সঠিক সময় এই টাকা কাজটা করে পোষাবে কী না। তারপর হ্যাঁ বা না জানিয়ে দেন।
৪. হ্যাঁ হলে ক্লায়েন্ট কাজটি করার অনুমতি দেন, তখন ফ্রিল্যান্সাররা কাজটি করে নমুনা পাঠায়।
৫. ক্লায়েন্ট দেখে ভুল বা ত্রুটি সম্পর্কে জানিয়ে দেন।
৬. ফ্রিল্যান্সার কাজটি ফাইনাল সম্পাদনা করেন এবং জমা দেন।
৭. ক্লায়েন্ট তার অর্থ পরিশোধ করে দেন।
নিয়মিত ক্লায়েন্টরা সাধারণত পরিচিত ফ্রিল্যান্সারদের কাজ দেন ই-মেইল, স্কাইপে কিংবা ভাইবারে। আর টাকাটা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। যদিও রেগুলার ক্লায়েন্ট পেতে হলে বেশ সিরিয়াস হয়ে লেগে থাকতে হয়। ব্যবহার আর কাজ খুব ভালো করতে হয়।
সফল, সেরা ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে:
সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে খুব সাবধান সতর্ক হতে হয়। 
১. মার্কেটপ্লেসে ক্লায়েন্ট সিদ্ধান্ত নেয় প্রোফাইল দেখে। প্রোফাইল সুন্দর, সাজানো, গোছানো হতে হয়। নিজে না পারলে প্রোফেশনাল কাউকে দিয়ে প্রোফাইল সাজিয়ে নেয়া উচিত যেন ক্লায়েন্টের মন কাড়া যায়।

২. অন্তত পক্ষে  যেকোন একটা বিষয়ে খুব এক্সপার্ট হতে হবে। মনে রাখবেন দশটা কাজে মোটামুটির কোন দাম নেই বিশ্বের বাজারে। আপনাকে দক্ষ হতে হবে, কাজের মধ্যে সাধারণ ভুলগুলো করলে চলবে না।
৩. কাজের নমুনা, স্যাম্পল সাজিয়ে রাখতে হবে। যে কেউ যে কোন সময় স্যাম্পল দেখতে চাইতে পারে। আপনাকে সদা সর্বদা তৈরী থাকতে হবে।
৪. জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসগুলিতে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন, বৃদ্ধি কিংবা পরীক্ষার জন্য অপশন থাকে এগুলোতে অংশ নিতে হবে।
৫. নিজের পোর্টফোলিও খুব সুন্দর ও ফ্রেশ রাখতে হবে।
৬. ফ্রিল্যান্সারদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়মিত হওয়া উচিত। সুযোগ মতো মিটিং, সেমিনার, গেট টুগেদারে যোগ দেয়া উচিত।
৭. প্রোফাইল সুন্দর করে এরপর প্রথম ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য নিয়মিত বিড-কন্টেস্ট করতে হবে। প্রতিটি সুযোগকে ধরার মতো সাহস ও সময় বরাদ্দ রাখতে হবে।
৮. প্রথম কাজ পেলে তা একদম সময় মতো, বাড়তি গিফট মূলকসেবা দিয়ে সম্পূর্ণ করতে হবে। যেন ক্লায়েন্ট ভালো রিভিউ দেয়, অন্য কাউকে রেকমেন্ড করে। 

আয় করা টাকা হাতে পাবেন যেভাবে:
১. আপনার আয় করা টাকাটা মূলত মার্কেটপ্লেসের ওয়েবসাইট থাকবে।
২. নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা হলেই উইথড্র দিতে পারেন। কিছু সাইটে উইথড্র দিলে টাকা সরাসরি ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে দেয়। অন্যরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে পাঠায়।
৩. প্রথমবার উইথড্র দেয়ার পর ১৫ কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগে। এরপর ২/৩ কর্মদিবসে টাকা পৌছে যাবে।  
৪. এছাড়াও অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের Master Card পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করে টাকা তোলা যায়, অনলাইনে শপিং করা যায়, সার্ভিস নেয়া যায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post