স্বপ্ন পূরন আইটি সেন্টার

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোন কাজে দক্ষ হবেন? কোন কাজ শিখবেন?

প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে, ফ্রিল্যান্সিং কোন আলাদা কাজ নয়। বরংচ কাজ করার এবং পেমেন্ট নেয়ার একটা ধরণ মাত্র। চাকরীতে আপনাকে নিয়োগ দেয়া স্থায়ী ভাবে বা লম্বা একটা সময়ের জন্য। আর ফ্রিল্যান্সিং করা হয় যে কোন এক বা একাধিক প্রজেক্টে কাজ করার জন্য। 

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ইলেক্ট্রিশিয়ানরা লোকাল ফ্রিল্যান্সার। আর গ্রাফিক ডিজাইনার, ওয়েব ডিজাইনার, অ্যাপ ডেভেলপার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এরা যেহেতু অনলাইনেই কাজ নিতে এবং জমা দিতে পারে তাই তারা লোকাল এবং অনলাইন দুই মাধ্যমেই কাজ করতে পারে।
তাই ফ্রিল্যান্সিং করেন আর স্থায়ী জব করেন আপনাকে নির্দিষ্ট কোন একটা কাজে দক্ষ হতে হবে। কোন একটা স্কিলে স্কিলড হতে হবে।
আবার খুব চাহিদা আছে যেমন অটোক্যাড, এন্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, গেম ডেভেলপমেন্ট, থ্রিডি, অ্যানিমেশন, বিভিন্ন কোড এক্সপার্ট, এরকম কাজে দক্ষ লোকের খুব অভাব। এদিকে টাকাও খুব বেশী, কম্পিটিশনও কম। 
আইটি, নন-আইটি, বিজনেস, ক্রিয়েটিভ, ইঞ্জিনিয়ারিং সব সেক্টরের কাজ করা যায় ফ্রিল্যান্সিং এ।


কোন কাজে দক্ষ হবেন তা বেছে নিতে কিছু পরামর্শ:
১. প্রথমেই ঘাটাঘাটি আরম্ভ করে দিন। খোঁজ খবর নিন কাজ সম্পর্কে, পেমেন্ট সম্পর্কে, দ্বায়িত্ব ও কাজের সমস্যা সম্পর্কে।
২. দিনে অন্তত ৬ ঘন্টা বরাদ্দ করে কমপক্ষে দুই মাস ধরে খোজ খবর নিন।
৩. এই কাজ করে এমন মানুষের সাথে দেখা করুন। তাদের সাথে আড্ডা দেয়ার চেষ্টা করুন।
৪. নিজের জীবন, নিজের লাইফ। সবার কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন, কিন্তু কারও থেকে সিদ্ধান্ত নিবেন না। তথ্য সংগ্রহ করুন।
৫. তথ্যগুলো তালিকা বদ্ধ করুন। পছন্দ হয় এমন কাজগুলোর একটা তালিকা করুন।
৬. কারও তালিকায় যদি মাত্র দুই বা তিনটা স্কিল থাকে। তারা সৌভাগ্যবান। এবার শেখার জন্য ভালো শিক্ষক বা মেন্টর খুজুন। শিখুন। কাজ করুন। আয় করুন।
৭. যাদের পছন্দের তালিকা অনেক লম্বা হয়ে গেছে তারা দশগুন সৌভাগ্যবান। তবে তাদের এবার তালিকা শর্ট করতে শুরু করতে হবে। পুরো তালিকা যত বড়ই হোক না কেন, শর্ট করে সর্বোচ্চ ৩টা স্কিলে নামিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
৮. মানসিকতার সাথে যায় না, এমন কাজ বাদ দিয়ে দেয়া উচিত।
যদি কম্পিউটার নিয়ে ১৫/১৬ ঘন্টা বুদ হয়ে থাকতে পারেন, যদি গণিত ভালো লাগে, যদি কোড নিয়ে ঘাটাঘাটি ভালো লাগে তাহলে ডিজাইনকে পরে শেখার জন্য রেখে দিন। কোডারদের হতে হবে কাজ পাগল। কাজ নিয়ে নেশাগ্রস্ত।
৯. যদি চটপটে, হাসিখুশী, মজার, উড়ু উড়ু মনের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে কোড বাদ দিয়ে দেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। 
এক্সেপশনাল কেস ছাড়া এমন ধরণের মানুষের জন্য কোডারের জীবনটা হবে দুর্বিষহ। যত টাকার লোভই চোখে লাগুক, কোড এড়িয়ে যান।
১০. স্বপ্নের সাথে না মিললে কাজ বাদ দিয়ে দিন। 
স্বপ্ন দেখছেন বড় আর্টিস্ট হবেন, কিন্তু ভালো টিচার পেয়েছেন যে ওয়েব ডেভেলপার... বাদ দিন।
স্বপ্ন দেখছেন সফটওয়্যার বানাবেন, অ্যাপ তৈরী করবেন, কিন্তু এলাকার দরদী এক ভাইয়াকে পেয়েছেন যিনি ডিজাইন পারেন... বাদ দিন।
মানুষের জীবন এমন সব আবেগী বোকামীর জন্য খুবই ছোট।
১১. পরিস্থিতির সাথে যায় না এমন সব কাজও বাদ দিয়ে দিন।
যেমন: পিওর কোডিং শেখার  জন্য বাসায় সুযোগ থাকতে হয়, পরিবেশ ভালো শান্ত থাকতে হয়। শুরুতে অন্তত ৭টা মাস যেন সংসার চালানোর টাকা অন্য খাত থেকে আসে সেই ব্যবস্থা থাকতে হয়।
১২. ঝগড়া-ঝাটি, হইচই, খুব দ্রুত আয় করার দরকার, বাসায় বাবা মা অসুস্থ, ভাইয়ের ব্যবসায় লস, বোনের পড়াশুনা খরচ দিতে হবে, সন্তানের স্কুলের ফিস দিতে হবে এমন পরিস্থিতিতে পিওর কোড মুলতুবি রাখ উচিত। তাড়াতাড়ি করে ব্লগিং-ওয়ার্ডপ্রেস শেখা দরকার। আয় করে আগে পরিস্থিতি বদলাতে হবে, তারপর ধীরে সুস্থে পিওর কোড শেখা যাবে, হ্যাকিং শেখা যাবে।

নিচের স্কিলগুলোর চাহিদা খুব বেশী। এখান থেকে বেছে নিতে পারেন নিজের জন্য:
Illustrator
Photoshop
Software Architecture
Excel
Android Developement
AngularJS Development
Bookkeeping
C#
Content Writing
Copy-writing
CSS
WordPress
 Data Entry
 Logo Design
 Graphic Design
 Website Design
 Mobile Phone
 Translation
 Software Development
 HTML
 PHP
চাইলে আরও হতে পারেন:
Customer Service Representative
Data Entry Specialist
Email Marketer
Excel Expert
Facebook Marketer
Article Writer
iOS Developer
JavaScript Developer
jQuery Developer
Mobile App Developer
Objective-C Developer
PHP Developer
Python Developer
Sales Consultant
SEO Expert
Social Media Consultant
Swift Developer
Technical Writer
UI Designer
UX Designer
Virtual Assistant

এখানে Freelancer.com এ কাজ বা স্কিল ক্যাটাগরির পুরো তালিকা পাবেন-
https://www.freelancer.com/hire/allskills
এখানে Upwork এ কাজের ক্যাটাগরির পুরো তালিকা-
https://www.upwork.com/i/freelancer-categories/

 
এখান থেকে দেখে গুগলে সার্চ দিয়ে কাজগুলো সম্পর্কে জানুন। কেমন সময় দিতে হয়, কী কী শিখতে হয়, সিলেবাস কী, কাজের সমস্যা কী? ভালো কতটুকু, প্যারা কতটুকু, সময় কেমন লাগবে, খরচ কেমন লাগবে সব কিছু সার্চ করলে পেয়ে যাবেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post